
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন আরিফুল ইসলাম তালুকদার। গত ২৮ নভেম্বর তিনি দলের আহ্বায়ক বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি দলীয় বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, সিদ্ধান্তহীনতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো নানা অভিযোগ তুলেছেন।
চিঠিতে আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তার অভিযোগ, অভ্যুত্থানের সেই সাফল্যকে দল কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বরং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের কারণে তারুণ্যের ঐক্য ভেঙে গেছে। এক সময় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা তরুণশক্তি কিছু নেতৃত্বের হীনমন্যতা ও অদূরদর্শী আচরণের কাছে পরাজিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি অংশ বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে অস্বাভাবিকভাবে অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন, যা শরিকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করেছে। জুলাইয়ের আহতদের তালিকা, গণহত্যার বিচার, আমলাতন্ত্র সংস্কার এবং রাষ্ট্রযন্ত্রে পরিবর্তন আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দল কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এখনো ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের প্রভাব বজায় আছে এবং মাফিয়া-নিয়ন্ত্রিত আমলাদের মাধ্যমেই পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। অথচ এসব বিষয়ে দল নীরব থেকে শুধু ক্ষমতার বলয় তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছে।
আরিফুল ইসলাম মনে করেন, এনসিপি দেশব্যাপী তারুণ্যের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করেছে। এমনকি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি দল বিস্ময়করভাবে উদাসীন- যা তাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।
শেষে তিনি লিখেছেন, দুঃখভরা হৃদয়ে জানাচ্ছি, এই দলে আমার আর কোনো ভবিষ্যৎ দেখি না। তবে দেশের স্বার্থে, তারুণ্যের সেই স্বপ্ন আবার জাগ্রত হলে নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে একসঙ্গে রাজপথে দেখা হবে।





















