বৃহস্পতিবার- ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণভোটে রাজনৈতিক দলের নীরবতায় উদ্বিগ্ন অন্তর্বর্তী সরকার

গণভোট নীরবতা
ছবি: ডিপিএল

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি একই দিনে আয়োজিত হবে বহুল আলোচিত রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ক গণভোট। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বাড়লেও গণভোট নিয়ে তাদের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচন নিয়ে দলগুলোর প্রস্তুতি দৃশ্যমান হলেও গণভোট বিষয়ে এখনো পর্যন্ত অধিকাংশ রাজনৈতিক দল তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। কোথাও কোথাও ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারের তথ্য পাওয়ায় সরকার বিশেষভাবে চিন্তিত। কর্মকর্তাদের মতে, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে এই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সেখানে দলগুলোর নির্লিপ্ততা অশুভ ইঙ্গিত বহন করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। সেই অর্জন টেকসই করতে এবং রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করা গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও জনগণের নৈতিক দায়িত্ব।

তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, গণভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। তাদের মতে, রাষ্ট্রের প্রচারমাধ্যম সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় জনমত গঠনে প্রধান দায়িত্ব সরকারেরই। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকার পর্যাপ্ত সমন্বয় করেনি বলেও মত দেন অনেক নেতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের সাফল্য বা ব্যর্থতার সঙ্গে সরকারের সামগ্রিক সাফল্য জড়িত। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠে নামাতে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধান সংশোধন ও মৌলিক রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জনগণের স্পষ্ট সম্মতি প্রয়োজন। সে কারণেই গণভোটের আয়োজন। এর ব্যর্থতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকার একা গণভোট সফল করতে পারবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকেই বড় ভূমিকা রাখতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দলগুলোর তেমন সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না-যা হতাশাজনক।

অন্যদিকে বিএনপি, এনসিপিসহ কয়েকটি দল জানিয়েছে, নির্বাচনি প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে অংশ নেবে। জামায়াতে ইসলামী মনে করে, গণভোট সফল করার প্রধান দায়িত্ব সরকারেরই।

সরকারের লক্ষ্য—গণভোটে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ হবে এবং আগামী কয়েক দশকের রাষ্ট্রীয় রূপরেখা নির্ধারিত হবে।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়