শারদীয় দুর্গোৎসব হল বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এটিকে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, এই পূজা বাঙালির জাতিসত্তা, সংস্কৃতি এবং চেতনাবোধের গভীরে প্রোথিত। এই দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করেই সমাজে সৃষ্টি হয় মিলন, আনন্দ এবং আত্মিক ঐক্যের এক অপরূপ বহিপ্রকাশ। মার্কণ্ডেয়পুরাণ, মৎস্যপুরাণ, দেবীপুরাণ, স্কন্দপুরাণ ও কালিকাপুরাণের মতো গ্রন্থগুলোতে দেবী দুর্গার আবির্ভাব, অসুর বধ, এবং তাঁর চিরন্তন শক্তির বিভিন্ন দিক প্রাচীন হিন্দু পুরাণে সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে ।
এই সব পুরাণে দুর্গার জন্ম কেবল পৌরাণিক রূপকথা নয়, বরং তা ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক অর্থে বহুমাত্রিক ব্যাখ্যায় গঠিত। বিশেষত, মহিষাসুর বধের কাহিনি দেবী দুর্গার মধ্যে অসুরবিনাশী শক্তির প্রকাশ, ন্যায়ের বিজয় এবং নারী-শক্তির প্রতীকী বিস্তার ঘটায়।
পুরাণগুলিতে দেবী দুর্গাকে কেবল একটি নির্দিষ্ট রূপে নয়, বরং বহুবিধ রূপে প্রদর্শন করা হয়। কখনো দশভুজা, অসুর-সংহারী যোদ্ধা; কখনও তিনি স্নেহময়ী, মমতায় পরিপূর্ণ জননী; আবার কখনো বা নিরাকার, সর্বব্যাপী এক শক্তি, আকারে ছোট হলেও ,অরূপ রূপে সাজানো হয় দূর্গাকে।
এই উপস্থাপনাগুলি শুধুমাত্র ধর্মীয় আবহে সীমাবদ্ধ নয়। এগুলি দর্শনের আলোয় একটি গভীর বার্তা বহন করে—দেবী দুর্গা আসলে মানুষের অন্তরাত্মায় লুকিয়ে থাকা সেই অপরাজেয় শক্তির প্রতীক, যার মাধ্যমে জীবনযুদ্ধে জয় সম্ভব।
দূর্গা বহুমাত্রিক রূপ , শক্তি কখনও মায়া, কখনও প্রতিরোধ, আবার কখনও নির্জন আত্মস্থতার আকারে প্রকাশ পেতে পারে। এ এক আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, যা পুরাণ ছাড়িয়ে ব্যক্তিসত্তার গভীরে প্রবেশ করে।