কুমিল্লায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মরদেহ উদ্ধারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে। আসামিদের স্বীকারোক্তির পাশাপাশি আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও কাজ চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে পারে এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। তারা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিত। তাদের কয়েকজন অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার আশাবাদ জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে দ্রুত শেষ হয়েছে, একইভাবে এই মামলার বিচারও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে। পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে সহযোগিতা করবে। তবে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত আদালতই দেবেন।
### যেভাবে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম
১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম।
গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি সে।
সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে অপ্রতিমের বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি নির্জন স্থানে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।