
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় আমিনাবাদ ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশন প্রণীত নির্বাচনী আচরণবিধি ২০০৮-এর (ঙ) পরিচ্ছেদে বর্ণিত বিধান পরিপন্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু একটি প্রার্থী নয়—একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রচারণা, মাইক ব্যবহার, সরকারি সম্পদ ব্যবহার এবং জনসমাগম করে সভা ও মিছিল করা হচ্ছে, যা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রণীত নির্বাচনী আচরণবিধি, ২০০৮ অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি যানবাহন ও স্থাপনা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি প্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO)-এর ধারা ৭৩ ও ৭৪ অনুযায়ী আচরণবিধি লঙ্ঘন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অপরাধে প্রার্থিতা বাতিলসহ অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকজন প্রার্থী প্রকাশ্যে এসব বিধিনিষেধ অমান্য করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভোটারদের ভাষ্য, আইন সবার জন্য সমান হলেও কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে তার যথাযথ প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে এক দায়িত্বশীল নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচনী আচরণবিধি ২০০৮ ও RPO ১৯৭২ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচন কমিশন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।





















