
ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্যপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের একটি বাড়িকে লক্ষ্য করে বুলডোজারসহ ছাত্র-জনতার একটি দল অগ্রসর হওয়ার ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর কলাবাগান রোডে একটি ট্রাকের ওপর বুলডোজারসহ প্রায় শতাধিক ছাত্র-জনতাকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে যেতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি ধানমন্ডি-৩২ অভিমুখে যাচ্ছিল। ট্রাকে থাকা যুবক মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বুলডোজার নিয়ে ধানমন্ডি-৩২ এ যাচ্ছি। আমরা এই বুলডোজার দিয়ে হাসিনার বাড়ি ভাঙব। ভারতীয় আধিপত্যবাদের কোনো অস্তিত্ব আমরা রাখব না।
হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে আবারও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) গভীর রাতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ওই বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকশ’ মানুষ তখন পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছিল।
ধানমন্ডি থানার ডিউটি অফিসার এসআই মিঠুন বিষয়টি নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, ‘এরকম একটি ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। ছাত্র-জনতা ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের বাড়ির দিকে গেছে। আমাদের থানার সবগুলো পার্টি সেখানে রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, থানার ওসি, এসি, এডিসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্যপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় হামলা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হয়েছে।
পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্ত মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।





















