দীর্ঘ সাত বছর পর দলীয় গঠনতন্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে প্রায় ১৪টি সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।
দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমান আমিরের নেতৃত্বে এটিই গঠনতন্ত্রে সবচেয়ে বড় ধরনের সংশোধনের উদ্যোগ। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক ধারায় প্রয়োজনীয় পরিমার্জন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ৬৮ নম্বর ধারায় নতুন উপধারা যুক্ত করে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের আমিরদের আর্থিক ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি দলীয় অর্থের উৎস ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা আরও সুস্পষ্টভাবে গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে দলীয় শুরা বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। নির্ধারিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রস্তাবগুলো প্রথমে সংশোধনী কমিটি, এরপর নির্বাহী পরিষদ এবং সর্বশেষ শুরা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ২৩তম সংশোধনী প্রস্তাব শুরা সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। কয়েকটি বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলেও কিছু প্রস্তাব নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংগঠনের অধীনে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ও রয়েছে। এই পরিষদে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে, যারা দলের সদস্য না হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
তবে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, আগামী শুরা বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অনুমোদিত সংশোধনীগুলো দলীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
জামায়াতের নেতারা বলছেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সংগঠনকে আরও গতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতেই এসব সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।