বুধবার- ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তালগাছ কমে যাওয়ায় নড়াইলে অস্তিত্ব সংকটে বাবুই পাখি

নড়াইলে বাবুই পাখি
নড়াইলের একটি গ্রামে তালগাছে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা (ফাইল ছবি)।

বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই”—কবি রজনীকান্ত সেন-এর কালজয়ী কবিতায় যে বাবুই পাখির শিল্পকুশলতার কথা বলা হয়েছে, সেই নিপুণ কারিগর আজ নড়াইলে অস্তিত্ব সংকটে।

একসময় গ্রামবাংলার মেঠোপথ, বাড়ির আঙিনা কিংবা রাস্তার ধারের তাল ও খেজুর গাছে ঝুলে থাকত দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসা। কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত জনপদ। কিন্তু তালগাছের স্বল্পতা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এখন সেই দৃশ্য প্রায় বিলুপ্ত।

নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো আর চোখে পড়ে না তালগাছের পাতায় ঝুলে থাকা বাবুই পাখির বাসা। ১৪-১৫ বছর আগেও প্রায় প্রতিটি গ্রামে তাল ও খেজুর গাছে অসংখ্য বাসা দেখা যেত। এখন মাইলের পর মাইল হাঁটলেও ঐতিহ্যের বাহক এই পাখির দেখা মেলা ভার।

অভিজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে তালগাছ নিধন, ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাবুই পাখির বিলুপ্তির প্রধান কারণ। ফলে তাদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।

বাবুই পাখি বাসা তৈরিতে অত্যন্ত দক্ষ। পুরুষ পাখি প্রথমে বাসার অর্ধেক তৈরি করে স্ত্রী সঙ্গীর সম্মতি নেয়। ৪ থেকে ৫ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে সম্পূর্ণ হয় দৃষ্টিনন্দন বাসা। বাসার নিচের অংশে দুটি ছিদ্র থাকে-একটি ডিম রাখার জন্য, অন্যটি যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্ত্রী পাখি বাসা পছন্দ না করলে পুরুষ পাখি নতুন করে বাসা নির্মাণ শুরু করে।

একটি পুরুষ বাবুই পাখি একটি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৬টি বাসা তৈরি করতে পারে। খড়, ঝাউ, তালপাতা, কাশ ও লতাপাতা দিয়ে নির্মিত হয় এসব বাসা। ধান ঘরে তোলার মৌসুমই তাদের প্রজননকাল। ডিম পাড়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর বাচ্চা ফুটে বের হয় এবং তিন সপ্তাহের মধ্যেই তারা বাসা ছেড়ে উড়ে যায়।

বিশ্বে প্রায় ১১৭ প্রজাতির বাবুই পাখি থাকলেও বাংলাদেশে দেশি, দাগি ও বাংলা—এই তিন প্রজাতির দেখা মিলত। বর্তমানে দাগি ও বাংলা প্রজাতি প্রায় বিলুপ্ত; দেশি বাবুই কিছু এলাকায় এখনো টিকে আছে।

স্থানীয়দের দাবি, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক এই পাখি সংরক্ষণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাখি শিকার বন্ধ ও তালগাছ রোপণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নড়াইলের বিএনপি নেতা টিপু মোল্লা বলেন, সচেতনতা ছাড়া পাখি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্ভব নয়। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পাখির বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়