
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের নির্বাচনী প্রচারণায় দফায় দফায় সন্ত্রাসী হামলা, গুলিবর্ষণ, গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ন্যক্কারজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দলটি।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিকেলে ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি জগির মোড়ে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকরা এ সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ভাঙচুর করা হয় প্রার্থীর গাড়ি এবং শতাধিক মোটরসাইকেল, পাশাপাশি কয়েকটিতে অগ্নিসংযোগও ঘটে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে পাবনার ইশ্বরদীতে ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন- পাবনার ইশ্বরদীতে আজ যা ঘটে গেল তা হঠাৎ করে হয়নি। বিএনপির দলীয় প্রার্থীর অসহিষ্ণু, অগণতান্ত্রিক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড বারবার প্রমাণ করছে, এটি ব্যালটের যুদ্ধ নয়; বরং বুলেট দিয়ে তিনি তার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চান।
তিনি আরও বলেন – প্রশাসন যে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে আসছে, জনগণ দেখতে চায় প্রশাসন কী করে।
জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান – সকল সন্ত্রাসীর ব্যাপারে আমাদের বার্তা হলো: জামায়াত কোনো সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করবে না। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে লড়াই আমাদের আরও জোরদার হবে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ইনশাআল্লাহ আমরা থামব না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, এ ঘটনা শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নস্যাৎ করার এক প্রকাশ্য অপচেষ্টা। এর আগেও একই এলাকায় জামায়াত কর্মীদের ওপর বিএনপির স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। পরপর এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা একটি সহিংস পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়।
বিবৃতিতে তিনি হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। বিএনপি প্রার্থীর অসহিষ্ণু ও উসকানিমূলক আচরণ প্রমাণ করছে-এটি ব্যালটের লড়াই নয়, বরং সহিংসতার মাধ্যমে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা।





















