টালিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী পূজায় বাঙালি দর্শকদের বুকে নীল বিকিনিতে ঝড় তুলছেন । পঞ্চমী থেকে বড়পর্দা মাতাচ্ছেন তিনি।
সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে, ইউনিফর্মে কঠিন চেহারার ‘সংযুক্তা’—‘রক্তবীজ ২’-এর সেই সাহসী পুলিশ অফিসার। ক্যামেরার সামনে যতোটা দৃঢ়, পর্দার বাইরে তিনি ততটাই নরম, ততটাই আলাদা।
পর্দার আর বাস্তবের মিমির অনেক বেশি ফারাক। বাস্তবে মিমি সংযত ও ঈশ্বরভক্ত। বিশ্বাসের সঙ্গে দেবীর আরাধনায় মগ্ন তিনি।
অষ্টমীতে তিনি পরেছেন চওড়া লালপাড়ের হলুদ রঙের কাঞ্চিভরম সিল্ক শাড়ি। ঘাড়ের কাছে নিপুণভাবে বাঁধা হাতখোঁপা, তাতে গুঁজে রাখা গন্ধরাজ ফুল। । গলায় ভারী সোনার হার, কানে ঝুমকো, হাতে শাঁখা-পলা আর সোনার বালা—সবই যেন মেখে আছে পূজোর পবিত্রতা।
পূজা প্রাঙ্গণে পা রাখতেই চারপাশ থমকে যায় এক মুহূর্তের জন্য। আলো, ধূপের গন্ধ, ঢাকের আওয়াজ—সবকিছু ছাপিয়ে চোখে পড়ে শুধু তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। যেন তিনি নিজেই অষ্টমীর আলো।
কোমরে আঁচল গুঁজে যখন নিজেই নেমে পড়লেন পূজার জোগাড়ে, তখন আর কেউ তাকে "তারকা" বলে মনে করল না—সে যেন আমাদের পাশের বাড়ির সেই মেয়েটিই, যিনি মন দিয়ে গুছিয়ে রাখেন উলুধ্বনি আর আরতির শব্দ।
কখনো গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করছেন মণ্ডপের চারদিক, আবার কখনো নিজের হাতে সাজাচ্ছেন ফুল, ধুপকাঠি, প্রসাদের থালা।
মিমি যেন এই আবাসনের দুর্গাপুজোয় শুধুই অতিথি নন, বরং প্রাণ। প্রতিটি মুহূর্তে তিনি উপস্থিত, হাতের ছোঁয়ায় পুজোর অনুষঙ্গগুলো হয়ে উঠছে আরও আপন।
আপ্তসহায়ক রুদ্রদীপের কাছে প্রশ্ন করেছিল একটি গণমাধ্যম কিভাবে মিমি পূজার দিনগুলো কীভাবে কাটাছেন। তিনি বলেছেন সারা বছর ক্যামেরার লাইট, মেকআপ, আর দৃশ্যের ফাঁকে যিনি দৌড়ে বেড়ান, পূজোর এই ক'টা দিন তিনি নিজের পরিবারকে সময় দেন, নিজের মতো করে সময় কাটান।পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা— যেমন পোশাকপরিকল্পক অভিষেক রায়, অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়— আর পরিবারের সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটানোতেই খুঁজে পান উৎসবের আনন্দ।
রক্তবীজ ২’-এর প্রচারে মিমি চক্রবর্তীকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না কেন?
এই প্রশ্নের উত্তরে আপ্তসহায়ক রুদ্রদীপ জানিয়েছেন, “দিদি আর প্রচারে বেরোচ্ছেন না। তিনি এখন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেই ছবির প্রচার করছেন।”