Search
Close this search box.

শুক্রবার- ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

মায়ানমারে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়েছে, এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা

মায়ানমারে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়েছে, এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা
ছবিঃ সংগৃহীত

মায়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সামরিক জান্তা সরকার।

সামরিক জান্তা সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এছাড়া, ভূমিকম্প আঘাত হানার নির্দিষ্ট সময়—মঙ্গলবার দুপুর ১২:৫১ মিনিটে এক মিনিট নীরবতা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, এ সময় জনগণকে থেমে দাঁড়িয়ে ভূমিকম্পে প্রাণ হারানোদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, গণমাধ্যমগুলোকে সম্প্রচার বন্ধ রেখে শোক পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,০৫৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৩,৯০০-এর বেশি মানুষ। এছাড়া এখনো ২৭০ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিহতদের মধ্যে তিনজন চীনা ও দুজন ফরাসি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে চীন ও ফ্রান্সের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর মান্দালয়-এ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। তবে তীব্র গরম, পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

সাধারণ মানুষ এখনো আতঙ্কে রয়েছে, অনেকেই তাদের বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় রাত কাটাচ্ছে। টানা চার রাত ধরে মান্দালয়ের বহু বাসিন্দা খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন।

মায়ানমারের ভূমিকম্পের ধাক্কা থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও অনুভূত হয়েছে। সেখানে ৩০ তলা একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ে ১৯ জন নিহত হয়েছেন।

মান্দালয়ের প্রধান হাসপাতাল এক হাজার রোগীকে বাইরে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। হাসপাতালের পার্কিং এলাকায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা পেতে ত্রিপল টাঙানো হয়েছে।

একজন চিকিৎসক জানান, আমরা যতটুকু পারছি, রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কাজ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে এ ভূমিকম্প মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একে সর্বোচ্চ স্তরের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে এবং আট মিলিয়ন ডলার তহবিল চেয়েছে। রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সংস্থা ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। মায়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন।

ভূমিকম্পের মধ্যেও সামরিক বাহিনী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। বিদ্রোহীদের দাবি, ভূমিকম্পের দিনও তাদের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যাতে সাতজন নিহত হয়েছেন। দেশটির গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই ৩৫ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ দেখতে╰┈➤…

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়