স্বপ্ন ছিল ইউরোপে পৌঁছানোর। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ হয়ে গেল সমুদ্রের ঢেউয়ের মাঝে। কেউ ফিরলেন জীবিত, কেউ আর ফিরলেন না।
গ্রিস উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি রাবার বোটে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে গ্রিস কোস্টগার্ড।
শনিবার (২৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। কোস্টগার্ড জানায়, ক্রিট দ্বীপের কাছে ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিকাল মাইল দক্ষিণে একটি জাহাজ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে এক নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। বাংলাদেশি ছাড়াও চারজন সুদানি ও একজন অন্যদেশের নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দু’জনকে গুরুতর অবস্থায় ক্রিট দ্বীপের হেরাক্লিয়নের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেঁচে ফেরা মানুষগুলো যা বলছেন, তা আরও ভয়াবহ। তাদের ভাষ্য, যাত্রাপথে খাবার ও পানির অভাবে একে একে অনেকেই মারা যান। পরে পাচারকারীর নির্দেশে মৃতদের দেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
ভাবুন তো-একটা নৌকায় দিন পর দিন ভাসছেন, না আছে খাবার, না পানি। তখন মানুষের কী অবস্থা হতে পারে?
জানা গেছে, নৌকাটি গত ২১ মার্চ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় তুবারুক শহর থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়। ইউরোপে প্রবেশের জন্য এই পথটি অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীর কাছে পরিচিত। কিন্তু মাঝপথেই পথ হারিয়ে ফেলে তারা। টানা ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর শুরু হয় এই মৃত্যু মিছিল।
এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর, এবং তারা সাউথ সুদানের নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মানুষ পাচার এবং মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত চলছে।