মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন এক মোড় নিয়েছে। এবার শুধু ড্রোনের ঝাঁক নয়-ইরান নামছে আরও ভারী অস্ত্র নিয়ে।
তেহরান জানিয়েছে, এখন থেকে তারা এমন মিসাইল ব্যবহার করবে, যেগুলোর বিস্ফোরক বহনক্ষমতা অন্তত এক হাজার কেজি। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে আঘাত হবে কম সংখ্যায়, কিন্তু ধ্বংসের ক্ষমতা হবে অনেক বেশি।
এই ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মাজিদ মুসাভি।
তার ভাষায়, যুদ্ধের নতুন পর্যায়ে ইরান এখন ‘হেভি পেলোড’ কৌশলে এগোবে।
যুদ্ধের শুরুতে ইরান ভিন্ন কৌশল নিয়েছিল। তখন তারা মূলত শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে একসঙ্গে প্রচুর আক্রমণ চালাত। উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা এবং দামি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল খরচ করিয়ে দেওয়া।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ইরান সরাসরি ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে খোররামশাহর-৪ মিসাইল এবং খাইবার মিসাইল।
এই মিসাইলগুলো ম্যাক-৮ এর বেশি গতিতে চলতে পারে এবং মাঝপথে গতিপথ বদলাতে সক্ষম। ফলে এগুলোকে প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে দাবি করছে তেহরান।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি এক টনের মিসাইল সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করলে তা একটি বিমানঘাঁটি বা ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার পুরোপুরি অচল করে দিতে পারে।
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন জানিয়েছে, আঞ্চলিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এখন ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারের নামও আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে ইরানের অস্ত্রাগারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম খোররামশাহর মিসাইল রয়েছে। এই মিসাইল প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
এ ছাড়া ইরানের হাতে রয়েছে মাঝারি পাল্লার সেজিল মিসাইল এবং প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার পাল্লার সুমার ক্রুজ মিসাইল।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শানাকা আনসেলম পেরেরা মনে করছেন, ইরান এখন যুদ্ধের হিসাবটাই বদলে দিতে চাইছে।
আগে একটি ড্রোন ভূপাতিত করতে প্রতিপক্ষকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করতে হতো। এখন যদি একটি ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে অনেক বেশি।
এই নতুন কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।