ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভ দমনের নামে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা শুরু করে, তাহলে তার ‘পরিণতি ভয়াবহ’ হবে। বুধবার থেকেই ফাঁসি কার্যকর হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা যদি এমন কিছু করে, আমরা খুব শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাব।”
সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও ক্লিপে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানে ইতোমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন তারা ফাঁসির কথাও বলছে। তাহলে দেখা যাক, এর ফলাফল তাদের জন্য কেমন হয়।”
এ সময় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। সেখানে একটি উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন ও অর্থনীতি নিয়ে ভাষণ দেন তিনি। ভাষণে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আগের বক্তব্য পুনরায় উল্লেখ করে বলেন, ইরানের বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘সহায়তা আসছে’।
ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি শিগগিরই একটি গোপন ব্রিফিং পাবেন। তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডের মাত্রা অনেক বড় বলেই মনে হচ্ছে। বিস্তারিত জানার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে-যে সীমা ইতোমধ্যেই অতিক্রম করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনটির ধারণা, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে, বিক্ষোভ দমনে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের আশঙ্কাও বাড়ছে। তেহরানের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’-অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ অভিযোগ আনা হচ্ছে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভিন্নমত দমন ও ভয় সৃষ্টি করতে ইরান কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিচার ও নির্বিচার ফাঁসির পথে হাঁটতে পারে-এমন গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইএইচআর জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি নামে এক যুবককে ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার পরিবারের সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বুধবারের মধ্যেই তাকে ফাঁসি দেওয়া হতে পারে।
সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া।