
মধ্যপ্রাচ্যে টানটান উত্তেজনা। একের পর এক হামলা, পাল্টা হামলা। এর মাঝেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলছেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছিল যে পাল্টা আঘাত ছাড়া তেহরানের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান শুরু থেকেই যুদ্ধ এড়িয়ে চলতে চেয়েছে।
তার ভাষায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা রেখে শান্তি বজায় রাখাই ছিল তেহরানের লক্ষ্য।
কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ইরানের দাবি, ওই সময় থেকে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অব্যাহত হামলা চালাতে থাকে। সেই চাপের মুখে নিজেদের রক্ষা করতেই পাল্টা হামলার সিদ্ধান্ত নেয় তেহরান।
এই সংঘাতের কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো।
এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ওমান-এ অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও ছিল লক্ষ্যবস্তু।
তবে ইরানের দাবি, তারা কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করতে চায়নি। হামলার লক্ষ্য ছিল কেবল মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা জায়গাগুলো।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব মূলত এই অঞ্চলের দেশগুলোরই। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-এই ব্যাখ্যায় কি সত্যিই আরব দেশগুলোর ক্ষোভ কমবে?
বিশ্লেষকদের মতে, ওমান ও কাতারের মতো দেশে হামলার পর ওই অঞ্চলে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, সেটি প্রশমনের চেষ্টাই করছে তেহরান।



















