এক শহর যেন হঠাৎ থমকে গেছে। রাস্তায় নেই স্বাভাবিক ভিড়, নিরাপত্তার কড়াকড়িতে বদলে গেছে পুরো পরিবেশ। কেন এমন? কারণ একটাই-ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বসতে যাচ্ছে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। আর তা ঘিরেই এখন বিশ্বের দৃষ্টি গিয়ে ঠেকেছে এই শহরে।
শুধু আলোচনা নয়, এর আগে থেকেই ইসলামাবাদ যেন এক ধরনের অঘোষিত লকডাউনে ঢুকে গেছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড জোন’ এলাকা—যেখানে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দূতাবাস রয়েছে-সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ ছিল, এখন সেখানে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, কোনো যানবাহনও ঢুকতে পারছে না।
তবে শহরের আশপাশে অন্য এক চিত্রও চোখে পড়ছে। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা ক্যামেরা হাতে অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে। সবার চোখ এক জায়গায়-এই বৈঠক আসলে কী বার্তা দেবে বিশ্বকে?
আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিদলের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢোকার পর থেকেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, অভ্যর্থনাও ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।
এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
সরকার দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর ইরানি প্রতিনিধিদলের গাড়িবহরকে ঘিরে রাখে স্পেশাল সার্ভিস ইউনিট। পাশাপাশি এলিট কমান্ড ইউনিটও ছিল প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে প্রশ্নটা এখন সবার-এই আলোচনায় কি সত্যিই কোনো বড় সমাধান আসবে? নাকি আবারও কূটনীতির টানাপোড়েনেই আটকে যাবে আশা? বিশ্ব তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদের দিকে।