
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। আগামীকাল রবিবার, হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলার ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করবে।
শনিবার (১৫ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এর আগে, বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আবরারের বাবা চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে, ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ বুয়েটের ২০ শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ শিক্ষার্থীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। পরবর্তীতে, নিম্ন আদালতের রায় পর্যালোচনার জন্য ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি মামলার নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়। হাইকোর্টে ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা: মেহেদী হাসান রাসেল (সাধারণ সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগ), মেহেদী হাসান রবিন (সাংগঠনিক সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগ), অনিক সরকার অপু (তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক), মনিরুজ্জামান মনির (সাহিত্য সম্পাদক), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (ক্রীড়া সম্পাদক), ইফতি মোশাররফ সকাল (উপসমাজসেবা সম্পাদক), এবং আরও ১৪ জন শিক্ষার্থী।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা: মুহতাসিম ফুয়াদ (সহ-সভাপতি, বুয়েট ছাত্রলীগ), ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক), অমিত সাহা (আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক), আকাশ হোসেন (সদস্য), মোয়াজ আবু হোরায়রা (সদস্য)
বিশ্লেষকদের মতে, এ রায় দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহিংসতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।