
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে এশিয়ার দেশগুলোর ভাগ্য একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। তাই টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা জরুরি। চীনের হাইনানে অনুষ্ঠিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এশিয়ার দেশগুলোকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।
ড. ইউনূস বলেন, এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য একটি টেকসই অর্থায়নব্যবস্থা প্রয়োজন। বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি) ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হবে। নির্ভরযোগ্য তহবিল নিশ্চিত করতে পারলে এশিয়ার দেশগুলো তাদের আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে।
তিনি বলেন, এশিয়া এখনো বিশ্বের সবচেয়ে কম সংহত অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। এই দুর্বল সংহতকরণ বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই আমাদের অবিলম্বে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর উচিত দক্ষতার সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা, যাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে এবং কৃষিক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তিগত পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। পুনরুদ্ধারমূলক, বিতরণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহার করা প্রয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টার মতে, এশিয়ার দেশগুলো যদি পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে পরিকল্পিত রোডম্যাপের মাধ্যমে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে, তবে এই অঞ্চল বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।