অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
মঙ্গলবার (রাত) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি-বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় ফিরে যাব—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে এই নির্বাচন ও গণভোট।”
ড. ইউনূস জানান, এবারের নির্বাচন একটি গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ, তার সাংবিধানিক প্রকাশ ঘটবে ব্যালটের মাধ্যমে।
তিনি তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের একটি ভোট শুধু সরকার গঠন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি রচনা করবে।”
নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিসি ক্যামেরা, ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটারদের নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর করেই অন্তর্বর্তী সরকার তার দায়িত্ব শেষ করবে।
ভাষণের শেষাংশে ড. ইউনূস দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভয় নয়-আশা নিয়ে, উদাসীনতা নয়-দায়িত্ববোধ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই নির্ধারণ করুন।