রবিবার- ২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটেই জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ হবে: আলী রীয়াজ

গণভোটে হ্যাঁ ভোট
গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ

জুলাই জাতীয় সনদকে কেবল কালি দিয়ে লেখা কোনো দলিল নয়, বরং শহীদদের রক্তে রচিত এক ঐতিহাসিক অঙ্গীকার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এই সনদের আলোকে দেশ পরিচালনার পথ সুগম করতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, “আগামীর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের দরজা খুলতে যে চাবিটি প্রয়োজন, সেটিই গণভোট। সেই চাবি এখন জনগণের হাতে। জনগণ যেভাবে চাইবে, বাংলাদেশ সেভাবেই পরিচালিত হবে।”

সংস্কার ও সাম্যের মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া তরুণদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা তাদের রক্তে শামিল হতে না পারলেও জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫–কে স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, এবারের গণভোটই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণের সর্বোত্তম মাধ্যম। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণায় কোনো আইনগত বাধা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ইউরোপে ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৪৮টি গণভোটের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। বাংলাদেশেও ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে—এটি আমাদের জন্য নতুন কোনো ধারণা নয়।

সরকারে থেকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়া নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “রায়ের বাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ লাশগুলোর কথা কি আমরা ভুলে গেছি? শত শত ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের পর পাওয়া নতুন বাংলাদেশের পথে দাঁড়িয়ে এমন প্রশ্ন কেন উঠবে?”

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়া। এবারের গণভোট সেই নতুন বন্দোবস্তের পক্ষেই জনমত যাচাই।

সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগের কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদুল হাসান।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়