একটি বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমন উদাহরণ টেনে দেশের কয়েকটি বড় প্রকল্পে দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১১ মে) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আর সেই ঋণের বোঝা এখন দেশের সাধারণ মানুষের কাঁধে এসে পড়েছে। তিনি বলেন, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অডিট প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
রূপপুর প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি কর্মকর্তাদের কোয়ার্টারের জন্য একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায়।
তার ভাষায়, “পাশের দেশে একই ধরনের প্রকল্প করতে যেখানে ১৪ হাজার কোটি টাকা লাগে, সেখানে রূপপুরে খরচ হয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা।”
কর্ণফুলী টানেল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, টানেলের মুখে গাছ লাগানোর কথা বলে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো গাছ পাওয়া যায়নি। এছাড়া অপর প্রান্তে অপ্রয়োজনীয় বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণেও শত শত কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
এলজিআরডির কিছু প্রকল্প নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু পিরোজপুর জেলাতেই কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে, অথচ বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।
পদ্মা সেতুর ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অন্য দেশে একই ধরনের সেতু অনেক কম খরচে নির্মাণ করা সম্ভব হলেও পদ্মা সেতুতে ব্যয় হয়েছে ৫৪ থেকে ৫৬ হাজার কোটি টাকা।
তিনি দাবি করেন, এই অতিরিক্ত ব্যয় না হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করা যেত। এসময় পুলিশ সদস্যদের আবাসন, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে অতীতের অনিয়ম ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে এখন অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এগোতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।