বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করে নজির গড়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই ধারাবাহিক সময়ে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীও শপথ গ্রহণ করেন।
এর আগে গত তিন বছরে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন-পরবর্তী সরকার—এই দুই সরকারের শপথ অনুষ্ঠানও পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। সর্বশেষ নির্বাচিত সরকারসহ তিনটি পৃথক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্বভার গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করান তিনি।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করানো রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক রূপান্তরের সময় ধারাবাহিক ও শান্তিপূর্ণভাবে এই দায়িত্ব পালন রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমানের সরকারের সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক সংস্কার ও নীতি-নির্ধারণসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন সরকারের কার্যক্রম ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, টানা তিন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকার ধারাবাহিকতা ও রাষ্ট্রীয় কার্যকারিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।