
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না।
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাতে অজ্ঞাত স্থান থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ এ আরাফাত বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন।
জুলাই গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, “আমরা ক্ষমতায় থাকার সময় যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার দায় স্বীকার করি। তবে ৫ আগস্টের পর ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের জন্য কি বর্তমান সরকার ক্ষমা চাইবে? তোফাজ্জল, মাসুদ ও রাজীব হত্যাকাণ্ডের দায় কে নেবে?”
তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন এই বিষয়গুলোর বিচার প্রক্রিয়ায় আনার চেষ্টা করেছি এবং একটি কমিশন গঠন করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সরকার এসব ঘটনার রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে, বিচার করতে চায় না।
বর্তমান সরকারের দমন-পীড়নের প্রসঙ্গে মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগকে শেষ করা সম্ভব নয়। জনগণের সমর্থন রয়েছে, তাই দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকার এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।