
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আজ বুধবার আসতে পারে। রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিকেল চারটায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াতের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সংবাদ সম্মেলনে জোটভুক্ত সব দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আজ সকালে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানো হতে পারে।
এদিকে, আসন বণ্টন নিয়ে সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে। দলটির প্রত্যাশা ছিল ৭০টির বেশি আসন, কিন্তু আলোচনার শেষ পর্যায়ে তাদের জন্য ৪৫টি আসন বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতে অসন্তুষ্ট ইসলামী আন্দোলন এখনো জোটে থাকবে কি না-সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ জানান, এ বিষয়ে দলটির অভ্যন্তরীণ বৈঠক চলমান রয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই বৈঠক চললেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
জামায়াত সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলনকে ধরেই সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে তারা শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় না থাকলে, বাকি দলগুলো নিয়েই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার দিনভর জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে অধিকাংশ দলের আসন চূড়ান্ত হলেও কয়েকটি দলের বিষয়ে এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আজ দুপুরের আগে আরেক দফা বৈঠকে সেগুলো নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে এরই মধ্যে ৩০টি আসনে সমঝোতা হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, এবি পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসন পেতে যাচ্ছে। তবে জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি ও কয়েকটি ছোট দলের আসন চূড়ান্ত হওয়া নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সমঝোতার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। যেটুকু বাকি আছে, তা বুধবার দুপুরের আগেই নিষ্পত্তি করা হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষির পর গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রথমে ১০ দলীয় জোটের ঘোষণা দেন। পরে আরও একটি দল যুক্ত হয়ে এটি ১১ দলীয় জোটে রূপ নেয়। তবে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় জোটের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং অধিকাংশ দল বাড়তি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। শেষ পর্যন্ত টানা বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।





















