নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট তাদের আসন সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই জোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে দলভিত্তিক আসন বণ্টনের তথ্য তুলে ধরা হয়। তবে সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জোটের অন্যতম নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে এতগুলো দল একত্রিত হয়ে এমন বৃহৎ নির্বাচনী জোট গঠন করেনি। এই ঐক্য ভবিষ্যতের জন্য একটি রাজনৈতিক মডেল হয়ে থাকবে।
‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দেবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৩০টি আসনে। এছাড়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পাবে ২০টি আসন।
জোটের অন্যান্য শরিকদের মধ্যে খেলাফত মজলিস (অন্য অংশ) ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি এবং নেজামে ইসলাম ২টি আসনে প্রার্থী দেবে।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) জোটে থাকলেও তাদের জন্য কতটি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে, বহুল আলোচিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ড. তাহের। তবে দলটি এখনও জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়নি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে, নির্বাচনী সমঝোতা বিষয়ে তারা ১৬ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।