জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। এর ফলে নির্বাচনী জোটটি আবারও ১১–দলীয় ঐক্যে রূপ নিয়েছে। এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই জোট থেকে সরে গেলে জোটটি ১০ দলে সীমিত হয়ে পড়ে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,১০ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আমাদের নির্বাচনী ঐক্যে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এর ফলে ঐক্যটি আবার ১১ দলে উন্নীত হলো। এটি আমাদের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে গঠিত এই মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। অর্থবহ পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমরা এই ঐক্যের সঙ্গে কাজ করতে চাই।
এ টি এম মা’ছুম আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশপ্রেমিক ও চিন্তাশীল মানুষদের নিয়ে একটি দায়িত্বশীল সরকার গঠনে আগ্রহী। আধিপত্যবাদবিরোধী শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় স্বার্থে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। এই ১১ দল নিজেদের মতপার্থক্য সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমরা যাদের সঙ্গে ছিলাম, তাদের অনেকের মধ্যেই এখন ফ্যাসিবাদের আচরণ দেখা যাচ্ছে। শুধুমাত্র ক্ষমতার পরিবর্তন হলে জনগণের ভাগ্য বদলাবে না। আমরা এমন পরিবর্তন চাই, যা জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণআন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়ন করবে।
জামায়াত ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে—বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ টি এম মা’ছুম বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”
জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। সব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখা স্বাভাবিক বিষয়। জামায়াতের ক্ষেত্রেই এসব প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হয়।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সম্ভাব্য যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময় হলে আপনারাই জানতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, খেলাফত মজলিস ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।