ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক কূটনীতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তারেক রহমান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ পুরোপুরি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও পুঁজির সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তারেক রহমান জানান, ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি, তারল্য সংকট নিরসন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দলীয়করণের শিকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকার কেবল তরুণ প্রজন্ম নয়, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেবে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও নারীদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আঞ্চলিক কূটনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) বাংলাদেশের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করেছিল। তাই বিএনপি সরকার সার্ককে পুনরায় সক্রিয় ও কার্যকর করতে আগ্রহী।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। তবে যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিআরআই দেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক হলে সরকার ইতিবাচকভাবে এগোবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনে দুই শতাধিক আসনে জয় পেতে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমরা জনগণকে কনভিন্স করার ইঞ্জিনিয়ারিং করেছি। জনগণকে আমাদের পক্ষে আনা—এটাই ছিল আমাদের সাফল্য।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।