বৃহস্পতিবার- ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভোট বানচালের বহুমাত্রিক ছক: অস্থিরতা তৈরির নেপথ্যে পতিত আওয়ামী লীগ

ভোট বানচালের ছক
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে পতিত আওয়ামী লীগ একটি বহুমাত্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো-ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ প্রমাণ করা এবং দেশে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যাতে নির্বাচনের মাধ্যমে নয় বরং অন্য কোনো পথে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হয়।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একটি অংশকে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

সূত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধাভোগী পুলিশ, আনসার ও প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। গত ১৬ বছরে দলটির ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখা দুই শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তার একটি নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও তাদের কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছেন, অনেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এসব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাবশালী ছিলেন এমন কয়েকজন সাবেক সচিব ও শীর্ষ আমলাকেও সক্রিয় করার অভিযোগ উঠেছে। তাদের সহযোগীরা এখনও সচিবালয় ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্বে থেকে নীরবে সহযোগিতা করছেন বলে সূত্রের দাবি।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে যুক্ত ছিলেন এমন সাবেক কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। পতিত দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন নেতা, যারা বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন, এসব কর্মকর্তাকে কীভাবে নিষ্ক্রিয় রাখা যায়-সে বিষয়ে কৌশল নির্ধারণ করছেন বলেও সূত্র জানিয়েছে।

রাজপথে অস্থিরতা তৈরির অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই ধাপে ধাপে আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র ও বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে সরকারি-বেসরকারি সেবা খাতে অচলাবস্থা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর নেপথ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো-নির্বাচন বানচালের জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা। এর মধ্যে অর্ধেক অর্থ প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের পেছনে এবং বাকি অর্থ মাঠপর্যায়ের আন্দোলনে ব্যয়ের চিন্তা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগপন্থি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবদুল লতিফ মাসুম মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার সফলভাবে নির্বাচন আয়োজন করলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ থাকবে না। সে কারণেই নির্বাচন বানচাল করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনের বাকি সময়গুলোতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাই নির্ধারণ করবে-দেশ একটি গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে পারবে কি না।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়