Search
Close this search box.

বৃহস্পতিবার- ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

আল্লাহ যাদের রোজা কবুল করেন না

আল্লাহ যাদের রোজা কবুল করেন না

রোজাদরের জন্য জান্নাতে প্রবেশের বিষেশ দরজা রায়হান থাকবে বলে হাদিসে এসেছে ওই দরজা দিয়ে শুধু রোজাদারগনই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের রোজা আল্ল্হর দরবারে কবুল হয় না। তারা রোজা রাখলেও কোনো প্রতিদান পাবেন না । আল্লাহ তা য়ালা রমজান মাসের প্রতিদান ও ফজিলত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবেন কিছু কিছু রোজাদার ব্যাক্তি কারণ তারা আল্লা ভীরু নয়।

আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে প্রতিদিন অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার জন্য একটি করে দোয়া কবুল করবেন। বিশেষ করে তিন ব্যক্তির দোয়া রমজানে আল্লাহ ফেরত দেয় না, তারা হলেন -রোজাদারের দোয়া ইফতার পর্যন্ত, ন্যায় পরায়ণ শাসক এর দোয়া ও মজলুমের দোয়া।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন যে ব্যক্তি রোজা রেখে অশ্লীল কাজ ও পাপাচার ত্যাগ করতে পারল না তার পানাহার ত্যাগ করার কোন দরকার নেই।যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে ও সে অনুযায়ী আমার বর্জন করেনি তার এ পানহার পরিত্যাগ করার কোন প্রয়োজন নেই। (সহীহ বুখারী ১৯০৩) মুমিনের জন্য সব সময় মিথ্যা পরিহার করে চলা উচিত। বিশেষত রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কারণ মিথ্যুকের রোজার প্রতিদান কেবল উপবাস থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। মহান আল্লার কাছে এর কোনো মূল্য নেই।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও তা অনুসারে কাজ করা ছাড়েনি, তার পানাহার ছেড়ে দেওয়ায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭০৭)
কোরআন-হাদিসে রোজাদারদের সম্মানে এত কিছু বলার পরও কিছু কিছু মানুষের রোজা থাকা একেবারে মূল্যহীন হবে; অর্থাৎ তাদের জন্য রোজা থাকা হবে শুধু না খেয়ে থাকা। নিম্নে তাদের বিষয়ে আলোচনা করা হলো—

মিথ্যাবাদী : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা এবং তা অনুসারে কার্যকলাপ করা পরিত্যাগ করেনি, তার পানাহার পরিত্যাগ করাতে (রোজা রাখাতে) আল্লাহর কাছে কোনো মূল্য নেই।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ)

আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠায় বাধাদানকারী : পবিত্র আল-কোরআনে অতি স্পষ্টভাবে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠায় বাধাদানকারীদের বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে

নেশাকারী : নেশাকারীর বিষয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘নেশাদ্রব্য পানকারী যদি তাওবা না করে মারা যায়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সুনান আন-নাসাঈ)

পিতা-মাতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারকারী : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পিতা-মাতা উভয়কে অথবা তাঁদের একজনকে বার্ধক্যে পাওয়ার পরও (তাঁদের সেবা করে) জান্নাত লাভ করতে পারল না, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি।’ (সুনান আত-তিরমিজি ও সহিহ ইবনে হিব্বান)

আবু হুরাইরা (রা.) আরেক বর্ণনায় বলেন, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘অনেক রোজাদার এমন আছে, রোজা থেকে তার প্রাপ্য কেবলই ক্ষুধার্ত থাকা ও পিপাসার্ত থাকা। এবং অনেক রাতের নামাজ আদায়কারী এমন আছে, যাদের এ নামাজের অংশ শুধুই দাঁড়িয়ে থাকা।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩৪৮১)

রমজান মাস শুধু মাত্র উপবাসের মাস নয় কেবল না খেয়ে থাকলে রোজা হবে না। রোজার সোয়াব পেতে হলে অবশ্যই চরিত্রবান হতে হবে, মিথ্যা বলা ত্যাগ করতে হবে, আমাদের রক্ষা করতে হবে কাউকে গালি দেওয়া যাবে না, পরনিন্দা করা যাবে না অথচ মানুষ এমনই করে এসব কাজ করলে রোজা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।

বাইরে কাজ কর্ম করে এসে বাসায় এসে কোন কিছু এলোমেলো দেখলেই কোন স্বামী যদি কোন স্ত্রীর প্রতি রাগারাগি করে স্ত্রীকে বকা দেয় গালি দেয় এবং রাস্তা চলাচলের সময় রিক্সার ভাড়া বা গাড়ি ভাড়া সঠিক ভাবে না দেয় অথবা রোজা রেখে বন্ধুদের সঙ্গে পরনিন্দা, ঘুষ খাওয়া এসবের সাথে জড়িত থাকে তাহলে সে ব্যক্তি হয়ে যায় কবুল হবে না।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন এগুলো রোজা নয় এমন রোজা আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। এমন রোজা আল্লাহর কবুল করেন না ।তাহলে কিভাবে পরিপূর্ণ রোজার সোয়াব পাওয়া যাবে? নিজের চরিত্র উন্নতির পাশাপাশি চরিত্রবান হওয়া হাদিসের হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন, ওই ব্যক্তি যে ব্যক্তি তার চরিত্র সৌন্দর্যমন্ডিত করেছেন আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানীয় একটি জিম্মাদার (সুনানে আবু দাউদ ৪৮০০)

শামীমা সুলতানা

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়