হজ শুধু একটি ইবাদত নয়, এটি একজন মুসলমানের আত্মিক পরিবর্তনেরও বড় একটি উপলক্ষ। তাই আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য অর্জিত হলে অযথা দেরি না করে হজ পালন করা উচিত-এমন আহ্বান জানিয়েছেন দেশের প্রখ্যাত আলেমরা।
হজযাত্রীদের হজের প্রস্তুতি, করণীয় এবং ইসলামী বিধান সম্পর্কে সচেতন করতে শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রি-হজ সেমিনারের আয়োজন করে আন নাদওয়া হজ্জ কাফেলা। অনুষ্ঠানে হজের গুরুত্ব, তাৎপর্য এবং সময়মতো হজ পালনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলোচিত ইসলামী বক্তা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী বলেন, আন নাদওয়া হজ্জ কাফেলা হজ ব্যবস্থাপনায় একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, হজের সিদ্ধান্ত একজন মুসলমানের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সামর্থ্য অর্জিত হলে বিলম্ব না করে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, হজের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগ ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। হজ মানুষের আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নয়নের পথ তৈরি করে। তাই গাফিলতি বা অজুহাত দেখিয়ে হজে দেরি করা উচিত নয়।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যাপক মাওলানা শায়েখ আ ন ম রশীদ আহমাদ মাদানী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসৃত পথই প্রকৃত পথ। তিনি বলেন, পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর হজে যাওয়া-আসা এবং থাকা-খাওয়ার খরচ বহনের আর্থিক সক্ষমতা ও শারীরিক সামর্থ্য অর্জিত হলে হজ ফরজ হয়ে যায়। এ দুটি শর্ত পূরণ হলে হজ পালনে দেরি না করারও তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আন নাদওয়া হজ্জ কাফেলার পরিচালক মাওলানা শহীদুল ইসলাম তরুণদের হজ পালনে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি উপস্থিত হজযাত্রী ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
মাওলানা শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং হাফেজ মাওলানা তারিক মুহাম্মদ নাসরুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত সেমিনারে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক দিদারুল আলম ভূঁইয়া, শাফিউল আলম, মোঃ আবদুর রহমান, মহিউদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, হজযাত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।