Search
Close this search box.

বৃহস্পতিবার- ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

রমজানের শেষ দশকের গুরুত্ব ও লাইলাতুল কদরের মহিমা

রমজানের দশ দশকের গুরুত্ব ও লাইলাতুল কদরের মহিমা

রমজানের শেষ দশদিনে রয়েছে বরকতময় ক্বদরের রাত। এ মাসকে আল্লাহ তা‘আলা অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা উম্মতকে এ রাতে অফুরন্ত সাওয়াব ও কল্যাণ দান করে অনুগ্রহ করেছেন।

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সুস্পষ্ট কিতাব আল-কুরআনে এ রাতের মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: “নিশ্চয় আমরা এটা নাযিল করেছি এক মুবারক রাতে; নিশ্চয় আমরা সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থিরকৃত হয়, আমাদের পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, নিশ্চয় আমরা রাসূল প্রেরণকারী। আপনার রবের রহমতস্বরূপ; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ– আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ্ নেই, তিনি জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান; তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও রব।” (সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ৩-৮)

রমজানের শেষ দশ দশকে কবে কোন রাতে আল্লাহ তা’আলা লাইলাতুল কদরে কবুল করবেন সেটা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। তাই রমজানের শেষ দশ দশকে প্রতিটা রাতকেই অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আমরা কুরআন নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে’; আর আপনাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল কদর’ কী? ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফিরিশ্তাগণ ও রূহ্ নাযিল হয় তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে। শান্তিময় সে রাত, ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত।’ (সূরা আল-ক্বদর, আয়াত: ১-৫)

ক্বদর শব্দটি সম্মান ও মর্যাদা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার এর অপর অর্থ হচ্ছে, তাকদীর ও ফয়সালা করা; কেননা ক্বদরের রাত অত্যাধিক সম্মানিত ও মহত্বপূর্ণ রাত, এ রাতে আল্লাহ তা‘আলা এ বছর যা কিছু হবে তা নির্ধারণ করেন এবং প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন।

রমজান মাসের শেষ দশকের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব রয়েছে:

এই দশ দিনের মধ্যে রয়েছে লাইলাতুল কদর নামে একটি রাত। যা হাজার মাসের থেকেও শ্রেষ্ঠ। এ রাতে যে ঈমান ও ইতিসাবের সাথে ইবাদত বন্দেগী করবে তার অতীতের পাপ গুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এ রাতে এবাদত- বন্দেগীতে বেশি সময় ও শ্রম দিতেন, যা অন্য কোন রাতে দেখা যেত না। যেমন মুসলিম শরীফে আয়েশা রাঃ বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে তিনি এ রাতে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, সালাত ও দোয়ার মাধ্যমে জাগ্রত থাকতেন এরপর সেহরি গ্রহণ করতেন। তিনি এই দশ দিনের রাতে মোটেও নিদ্রা যেতেন না পরিবারের সকলকে তিনি এ রাতের ইবাদত বন্দেগী করার জন্য জাগিয়ে দিতেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এই দিনগুলোতে স্ত্রীদের থেকে আলাদা হয়ে যেতেন।

এই দশ দিনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম শেষ দশদিনের মসজিদ থেকে এতেকাফ করতেন, প্রয়োজন ব্যতীত তিনি মসজিদ থেকে বের হতেন না। লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব আল্লাহ রব্বুল আলামিন এ রাতকে সকল রাতে চেয়ে সর্বশ্রেষ্ঠের মর্যাদা দিয়েছেন। আমি ইহা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনীতে। আমি তো সতর্ককারী । এর রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। সূরা আদ দুখান (আয়াত ৩-৪) রমজানের শেষ সাত দিনে লাইলাতুল কদর থাকা সম্ভাবনা অধিকতর। যেমন হাদিসে এসেছে লাইলাতুল কদর যে অন্বেষণ করতে চায় সে যেন শেষ সাত দিন অন্বেষণ করে। (বুখারী ও মুসলিম)

অধিকতর সম্ভবনার দিক দিয়ে প্রথম হলো রমজান মাসের ২৭ তারিখ, দ্বিতীয় হল ২৫ তারিখ, তৃতীয় হল ২৯ তারিখ, চতুর্থ হল 21 তারিখ, পঞ্চম হল ২৩ তারিখ । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গোপন রেখেছেন আমাদের উপর রহম করে। তিনি দেখতে চান এর বরকত ও ফজিলত লাভের জন্য কে কত প্রচেষ্টা চালাতে পারে।লাইলাতুল কদরে আমাদের করণীয় হলো বেশি করে দোয়া করা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেন, লাইলাতুল কদরের আমি কি দোয়া করতে পারি? তিনি বললেন হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল ক্ষমাশীল অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিজি)

শামীমা সুলতানা

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়