রবিবার- ২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১০ দিনের নাটকীয় বিরতির পর বিসিবির অর্থ কমিটির দায়িত্বে ফিরলেন নাজমুল ইসলাম

নাজমুল ইসলাম বিসিবি
মোঃ নাজমুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত

বিতর্কের রেশ এখনো কাটেনি। অথচ তার মধ্যেই আবার দায়িত্বে ফিরলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির প্রধান হিসেবে ফের দায়িত্ব পেয়েছেন এম নাজমুল ইসলাম।

বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে যাকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, মাত্র ১০ দিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্তই পাল্টে গেল।

গতকাল বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন নাজমুল ইসলাম। সেখানেই তাকে আবারও অর্থ কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিসিবির একজন পরিচালক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সভা শেষে বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, নাজমুল ইসলামকে যে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তার জবাব তিনি জমা দিয়েছেন। সেই জবাব বিসিবির শৃঙ্খলা বিভাগ পর্যালোচনা করে সন্তোষজনক বলেই মত দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে ঘটনাপ্রবাহটা কিন্তু বেশ উত্তাল। এর আগে তামিম ইকবালকে নিয়ে করা মন্তব্যসহ একাধিক বক্তব্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন নাজমুল ইসলাম। এমনকি একপর্যায়ে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ফেরত দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ক্রিকেট মহল।

এরপর ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়া) তার পদত্যাগ দাবি করে। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে যখন মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজসহ জাতীয় দলের সব ক্রিকেটার ১৫ জানুয়ারি বিপিএল বয়কটের ঘোষণা দেন।

চাপে পড়ে বিসিবি তখন নাজমুল ইসলামকে শোকজ নোটিশ দেয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পর তিনি সেই ব্যাখ্যা জমা দেন।

তবে বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বোর্ড সরাসরি কোনো নির্বাচিত পরিচালককে সরিয়ে দিতে পারে না। চার বছরের জন্য নির্বাচিত পরিচালকের পদ শূন্য ঘোষণা করা যায় কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে-যেমন মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্য হারানো, গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ, দেউলিয়া হওয়া বা টানা তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকা।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়-এত কিছুর পরও দায়িত্বে ফেরা কি স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত? নাকি বোর্ডের ভেতরে বাস্তবতা ভিন্ন কিছু বলছে?

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়