বুধবার- ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মিরপুরের রান-আউট বিতর্কে এমসিসি: আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত শতভাগ সঠিক

সালমান আগা রানআউট
ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেটে কখনো কখনো একটি মুহূর্তই পুরো ম্যাচের আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ–পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচেও ঠিক তেমনই একটি ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের ব্যাটার সালমান আগা-র রান-আউট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্রিকেট মহলে শুরু হয় নানা আলোচনা।

এবার সেই বিতর্কে মত দিয়েছে ক্রিকেট আইনের রক্ষক সংস্থা মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। সংস্থাটি বলছে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ছিল পুরোপুরি সঠিক।

ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৩৯তম ওভারে। তখন বল করছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। স্ট্রাইকে ছিলেন পাকিস্তানের উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান।

রিজওয়ান বলটি হালকা করে বোলারের দিকে ঠেলে দেন। নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা সালমান আগা দ্রুত সিঙ্গেল নেওয়ার জন্য দৌড় শুরু করেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে মিরাজের সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। ধাক্কার পর আগা বলটি সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এর মধ্যেই মিরাজ বল তুলে স্টাম্প ভেঙে দেন।

টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, উইকেট ভাঙার সময় আগা ক্রিজের বাইরে ছিলেন। ফলে আম্পায়ার তাকে রান-আউট ঘোষণা করেন।

অনেক দর্শক ও বিশ্লেষক তখন প্রশ্ন তোলেন-ধাক্কার পর কি বল ‘ডেড’ হয়ে গিয়েছিল?

এই প্রশ্নের জবাবে এমসিসি জানিয়েছে, কেবল সংঘর্ষ ঘটলেই বল ডেড হয়ে যায় না। যদি গুরুতর চোট বা খেলার বড় ধরনের বাধা তৈরি না হয়, তাহলে বল লাইভই থাকে।

সংস্থাটি আরও জানায়, উইকেট ভাঙার সময় বলটি লাইভ ছিল এবং সালমান আগা ক্রিজের বাইরে ছিলেন। তাই আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী একেবারেই সঠিক।

এমসিসি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে। ফিল্ডিং দলের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যাটার যদি বল হাতে নেয়, তাহলে তাকে ‘অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড’ হিসেবেও আউট ঘোষণা করা যেতে পারে।

তবে ক্রিকেটের আইনের পাশাপাশি ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’ বা খেলার চেতনাকেও গুরুত্ব দিয়েছে এমসিসি।

তাদের মতে, সালমান আগা হয়তো ভেবেছিলেন বলটি ডেড হয়ে গেছে এবং তিনি ফিল্ডারকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অধিনায়ক চাইলে আপিল তুলে নিতে পারতেন—আইন অনুযায়ী সেই সুযোগও ছিল।

কিন্তু ক্রিকেটে অনেক সময় সিদ্ধান্তের সীমারেখা খুব সূক্ষ্ম হয়। সেই সীমারেখার মধ্যেই মিরপুরের এই রান-আউট এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়