বৃহস্পতিবার- ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি: তফসিল ঘোষণা করলেন সিইসি নাসির উদ্দিন

জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এই তফসিল ঘোষণা করেন। একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

সিইসি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। দুটি ভোট একই দিনে হওয়ায় এবার সময় ব্যবস্থাপনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। এজন্য ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে।

তফসিল অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো

  • মনোনয়নপত্র জমা: ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত
  • মনোনয়ন বাছাই: ৩০ ডিসেম্বর – ৪ জানুয়ারি
  • আপিল দায়ের: ১১ জানুয়ারি
  • আপিল নিষ্পত্তি: ১২–১৮ জানুয়ারি
  • প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ২০ জানুয়ারি
  • প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি
  • প্রচার শুরু: ২২ জানুয়ারি
  • প্রচার শেষ: ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০

১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের জাতীয় নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আট আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রায় ১৬ মাস পর এই সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলো নির্বাচন কমিশন।

প্রথমদিকে বিএনপিসহ কয়েকটি দল ২০২৫ সালের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের দাবি করেছিল। তবে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে সমঝোতা গড়ে ওঠে। এরপর সরকার ও ইসি একই সময়সূচিতে প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়।

ইসিতে বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৫৬টি। নিবন্ধন স্থগিত দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। অন্যরা দলীয় প্রতীকে এবং যোগ্য ব্যক্তিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় নিরাপত্তা-ব্যবস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকার জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় মাঠে থাকবে। এবার ভোটে প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন-যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ইসি বলছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়