বুধবার- ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নির্বাচন সামনে রেখে কালোটাকা রোধে এমএফএসে কড়াকড়ি: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

এমএফএস লেনদেন বন্ধ
এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক | ছবি: AI জেনারেটেড

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কালোটাকা ও অবৈধ লেনদেন রোধে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের একটি সাহসী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হলেও, এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রম কতটা ব্যাহত হবে-সে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রোববার রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টার জন্য এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এ সময় বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ এমএফএস সেবায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনে প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠানো যাবে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাকার অপব্যবহার রোধের যুক্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন অনেকে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বিধিনিষেধ কি সত্যিই কালোটাকার মূল স্রোত বন্ধ করতে পারবে, নাকি এর বড় চাপ গিয়ে পড়বে সাধারণ গ্রাহক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর?

বিশেষ করে জরুরি আর্থিক লেনদেন, পরিবারে টাকা পাঠানো, ছোট ব্যবসার দৈনন্দিন লেনদেন এবং চিকিৎসাজনিত ইমারজেন্সিতে এই সীমাবদ্ধতা ভোগান্তির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমালোচকদের মতে, অপরাধ দমনের নামে সার্বিক লেনদেন সীমিত করা সাধারণ মানুষের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট ও বিল পরিশোধ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং সন্দেহজনক লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই সীমাবদ্ধতা নির্বাচনকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রমে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগী, জরুরি চিকিৎসা বা হঠাৎ বিপদের মুহূর্তে দ্রুত অর্থ লেনদেন অনেক পরিবারের জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। সে জায়গায় সামান্য দেরিও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

কালোটাকার বিরুদ্ধে লড়াই যেমন জরুরি, তেমনি নীতি বাস্তবায়নের সময় মানবিক বাস্তবতা ও জরুরি পরিস্থিতিগুলো বিবেচনায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ-এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়