রবিবার- ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরকারে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ঠেকাতে পারিনি: ফরিদা আখতার

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি
বক্তব্য রাখছেন সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

সরকারের ভেতরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একটি বাণিজ্য চুক্তি ঠেকাতে পারেননি-এমন আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

তিনি বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আটকে রাখা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা স্ট্রিম কার্যালয়ে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: ক্যাবের ১৩ দফা ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

ফরিদা আখতার জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সস্তা মাংস, পোলট্রি ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য আমদানির বিষয়ে তিনি শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। তার মতে, এমন চুক্তি দেশের খামারি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তিনি বলেন, একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের বাণিজ্য চুক্তি হলেও সেটিকে গোপন রাখার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি সরকারের ভেতরেও সবাই পুরো বিষয়টি জানার সুযোগ পায়নি। “এটা তো স্বাভাবিক হতে পারে না,” মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রাণিজ পণ্য আমদানির অনুমোদন বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। তখন তারা জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে আপত্তি জানান।

বিশেষ করে জুনোটিক রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

ফরিদা আখতার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উন্নতমানের পরীক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে ঢোকার আগে নিজস্ব পরীক্ষার সুযোগ থাকা জরুরি। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেই সুযোগ রাখা হয়নি।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত উৎপাদিত মাংস বাংলাদেশে ডাম্পিং হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এসব প্রাণীকে জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাদ্য খাওয়ানো হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যদি বিদেশি মাংস কম দামে বাজারে ঢুকে পড়ে, তাহলে দেশের প্রায় দুই কোটি খামারি ও পশুপালন নির্ভর মানুষের জীবিকা বড় ধাক্কায় পড়তে পারে।

“আমাদের দেশে অসংখ্য মানুষ গরু-ছাগল পালন করে জীবন চালান। তাদের জন্য এই পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে,” বলেন তিনি।

চুক্তির বিরোধিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবেও এবং সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবেও তিনি শেষ দিন পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।

“তবু সরকারের ভেতরে থেকেও চুক্তি ঠেকাতে পারিনি। এই না পারার দায় আমারও রয়েছে,” বলেন ফরিদা আখতার।

একই আলোচনায় তিনি বলেন, অনেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কে পুরোপুরি ব্যর্থ বা হতাশাজনক বলছেন। তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

তার মতে, ১৮ মাসের একটি সরকারকে একদিকে রাজনৈতিক চাপ, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা নানা সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়েছে। ফলে সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়