জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দেশের রফতানি খাতে সম্ভাব্য নানা বাধা দূর করবে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি এই চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে জাপান-বাংলাদেশ ইপিএ স্বাক্ষর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, এই চুক্তির ফলে জাপানের উৎপাদন ও সেবা খাতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে দেশের কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির আওতায় জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেলেও এতে জাতীয় রাজস্বে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ বশিরউদ্দীন আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শুল্ক চুক্তি আজ রাতেই স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামীকাল প্রকাশ করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে রমজানে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত সরকার বন্দর সচল রাখতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, জাপান-বাংলাদেশ ইপিএ চুক্তিতে বাংলাদেশ অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে দেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। তিনি জানান, চুক্তিটি খুব শিগগিরই কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন, ইপিএর আওতায় জাপান তাদের বাজারে ৭ হাজার ৭৯টি বাংলাদেশি পণ্যকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। বিপরীতে, জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশে বিনাশুল্কে প্রবেশ করবে।