
বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ – এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেছেন, “আমরা যদি ব্যর্থ হই, তবে কোনো সংস্কারই টিকবে না।
শনিবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ – এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ৮৫টি দেশের দুই শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
সংবিধানই বিচার বিভাগের বৈধতার একমাত্র ভিত্তি
প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমান সংবিধানে ত্রুটি থাকলেও এটাই বিচার বিভাগের একমাত্র বৈধ ভিত্তি। আইনের শাসন কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি। তিনি মনে করিয়ে দেন, জুলাইয়ের নাগরিক আন্দোলন রাষ্ট্রকে তার সাংবিধানিক কাঠামো পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করেছে।
জুলাই অভ্যুত্থান ও বিচার বিভাগের ভূমিকা
জুলাই–পরবর্তী অস্থির সময়ে বিচার বিভাগই ছিল একমাত্র সম্পূর্ণ কার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান- বলেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর মতে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাড়াদানের ক্ষমতা ছিল তখনকার জনআকাঙ্ক্ষার মূল বার্তা।
ভবিষ্যৎ মানবিক, রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক পুনর্গঠনের সময় বিচার বিভাগ বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দৃষ্টি, প্রজ্ঞা ও সাহসই নির্ধারণ করবে পরিবর্তিত রাষ্ট্রে বিচার বিভাগ কতটা প্রাসঙ্গিক থাকবে।”
সংস্কারের ধারাবাহিকতা নির্ভর করবে বিচার বিভাগের ওপর
তিনি বলেন, জনগণ ভবিষ্যতে সংবিধান পুনর্লিখন করতে পারে – এটাই গণতান্ত্রিক সত্য। বিচার বিভাগকে এটি হুমকি নয়, বরং গণতান্ত্রিক আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান যতই ত্রুটিপূর্ণ হোক, এটি আমাদের পথনির্দেশক। নির্বাহী বিভাগের বাড়াবাড়ি, অযৌক্তিক আইন বা বিচার বিভাগের সীমালঙ্ঘন- সবক্ষেত্রেই আদালতকে ফিরে যেতে হয়েছে মৌলিক নীতিমালার কাছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিবেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চায় বাংলাদেশ। এআই, ডিপফেক, ভুল–তথ্য প্রচার- এসবই কূটনীতি ও শাসন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর হবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন করিডর, আর এখানে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।





















