বৃহস্পতিবার- ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিক্ষোভে অংশ নিলেই ‘আল্লাহর শত্রু’: মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি ইরান সরকারের

ইরান বিক্ষোভ দমন
ছবি: সংগৃহীত

টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবে বা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করবে, তাদের ‘মোহারেব’ অর্থাৎ ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানের আইনে এই অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ চরম দণ্ড।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুধু সরাসরি বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরাই নয়, বরং যারা দাঙ্গাকারীদের যেকোনোভাবে সহযোগিতা করেছে, তারাও একই অভিযোগের মুখোমুখি হতে পারে।

ইরানের দণ্ডবিধির ১৮৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়িত থাকে, তবে জেনে-বুঝে তাদের সহায়তাকারীরাও ‘মোহারেব’ হিসেবে বিবেচিত হবেন—এমনকি তারা নিজেরা অস্ত্র হাতে না নিলেও।

এছাড়া দণ্ডবিধির ১৯০ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘মোহারেব’-এর জন্য কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব শাস্তির মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা অথবা আজীবন দেশের অভ্যন্তরে নির্বাসন।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত ও কঠোর বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। সরকার মনে করে, যারা বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা বা সহানুভূতি দেখানো হবে না।

মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ ও টেলিফোন লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে জনগণের প্রতি শনিবার ও রোববার রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের শাহ আমলের প্রতীক সিংহ-সূর্য চিহ্নযুক্ত পুরোনো ইরানি পতাকা ও জাতীয় প্রতীক বহনের আহ্বান জানান, যাতে জনগণ নিজেদের জনপরিসরের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের মাধ্যমে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য ১৪ লাখ ছাড়িয়ে গেলে জনঅসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে, যা ধীরে ধীরে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়