
প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বাহারাইন ও ওমানসহ কয়েকটি দেশের ঘটনায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলেও তদন্তে আইন লঙ্ঘনের কোনো আলামত মেলেনি বলে জানিয়েছে কমিশন।
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, বাহারাইনে গত ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট বিতরণের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে প্রায় ১৬০ থেকে ২৩৩টি ব্যালট একত্রে বিতরণ করা হচ্ছিল বলে দাবি ওঠে। তবে কমিশনের তদন্তে দেখা গেছে, এতে কোনো ধরনের জালিয়াতি হয়নি। বরং পরবর্তীতে অধিকাংশ ব্যালট পুনরায় বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসে ফেরত দিয়ে এককভাবে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একইভাবে ওমানে বাল্ক ডিস্ট্রিবিউশন সংক্রান্ত একটি ভিডিও আংশিক সত্য হলেও, পরে সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট ছাড়া ব্যালট বিতরণ না করার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরব ও কুয়েতেও এখন পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালট জালিয়াতির কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে ইসি নিশ্চিত করেছে।
কুয়েতের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির পেছনে কর্মরত বাংলাদেশি পোস্টম্যানদের অসতর্কভাবে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াকে দায়ী করছে কমিশন। এসব ভিডিওকে কেন্দ্র করে ভুল ব্যাখ্যা ও গুজব ছড়িয়েছে বলে মত ইসির।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান জানিয়ে বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এনআইডি ব্লক, দেশে ফিরিয়ে এনে ফৌজদারি মামলা এবং ভোটাধিকার বাতিলের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
প্রবাসী ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিশন ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
ইসি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত প্রবাসীদের কাছে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩ জন ভোটার কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যালট গ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। ভুল ঠিকানার কারণে প্রায় ৪ হাজার ৫২১টি ব্যালট ফেরত এসেছে, যার বেশিরভাগ মালয়েশিয়া ও ইতালি থেকে।
কমিশনের মতে, প্রবাসীদের ডিজিটাল সচেতনতার ঘাটতি এবং একই ঠিকানায় একাধিক ভোটারের বসবাসের কারণে বিতরণ প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।



















