রবিবার- ২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অস্তিত্ব সংকটে পিরোজপুরের বলেশ্বর নদী, নদীর বুকে হাঁটছে মানুষ

বালেশ্বর নদী সংকট
পানি শুকিয়ে যাওয়া বলেশ্বর নদীর বুক দিয়ে চলাচল করছে স্থানীয় মানুষ

পিরোজপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বলেশ্বর নদী আজ নিজেই টিকে থাকার লড়াইয়ে। একসময় যে নদী ছিল নৌপথ, জীবিকা, বাণিজ্য ও শহরের শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতীক—আজ সেখানে নেই স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ। নদীর বুকজুড়ে জমে আছে কাদা ও স্থবিরতা, যা শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বর্তমানে বলেশ্বর নদীর মাঝখান দিয়ে মানুষ হেঁটে চলাচল করছে—যা কোনোভাবেই একটি সচল নদীর স্বাভাবিক চিত্র নয়। স্থানীয়দের মতে, এটি নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অবহেলা ও ব্যর্থতার নগ্ন প্রমাণ।

একসময় এই নদী থেকেই পিরোজপুর শহরের মানুষ মাছ আহরণ করত, নৌপথে বাণিজ্য চালাত এবং নদীর প্রাকৃতিক বাতাসে স্বস্তি পেত। কিন্তু এখন বলেশ্বর নদী ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীটির এই করুণ অবস্থার জন্য শুধু প্রাকৃতিক কারণ দায়ী নয়। অপরিকল্পিত দখল, নাব্যতা হ্রাস, নিয়মিত ড্রেজিংয়ের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক উদাসীনতাই বলেশ্বরের এই অবস্থার মূল কারণ। নদী শুকিয়ে গেলে শুধু পরিবেশ নয়, শহরের জীববৈচিত্র্য, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

আগামী ১২ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সচেতন মহলের দাবি- নতুন করে যিনি পিরোজপুরের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তার অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলেশ্বর নদী রক্ষা। উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণার চেয়েও জরুরি হলো নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বলেশ্বর নদী কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়- এটি পিরোজপুর শহরের অস্তিত্বের প্রশ্ন। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই অবহেলার দায় ক্ষমা করবে না। নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে, শহর বাঁচবে—এই অঙ্গীকার দিয়েই হোক আগামী দিনের নেতৃত্বের পথচলা।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়