মঙ্গলবার- ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাবির ঘটনা ‘মব’ নয়, নির্ধারিত অপরাধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাবি ঘটনা মব নয়
কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক মারধরের ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই একে ‘মব কালচার’-এর উদাহরণ বলছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ঘটনাটিকে সেইভাবে দেখা ঠিক নয়।

তার ভাষায়, এটি কোনো মব নয়, বরং নির্দিষ্টভাবে সংঘটিত একটি অপরাধ।

সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, দেশে ‘মব কালচার’ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ যদি দল বেঁধে কাউকে আক্রমণ করে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরাধ অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের বাইরে রাখা হবে না। অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ-যেই হোক না কেন, সবাইকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা সভায় পর্যটন নিয়েও কথা বলেন তিনি। দেশের পর্যটনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত-কে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সৈকত এলাকায় অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

একই সঙ্গে পুরো শহরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সক্রিয় করার কথাও জানান তিনি। নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মাদক সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উখিয়া–টেকনাফ রুট দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মাদক কারবার বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অনলাইন জুয়া বন্ধের ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের দেশে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে।

সভায় জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজারের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়