
রাতভর উৎকণ্ঠা, যুদ্ধের শঙ্কা-সবকিছুর মাঝেই হঠাৎ স্বস্তির খবর। হরমুজ প্রণালি খুলছে, আর তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তেলের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। এতে করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ইরানে দুই সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এর শর্তও আছে-ইরানকে দ্রুত ও পুরোপুরি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে, যাতে জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবকে ঘিরে আলোচনা এগোনোর সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন। যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও যুদ্ধবিরতি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
এই যুদ্ধবিরতিকে ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউস বলছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সফলতা। অন্যদিকে ইরানের সরকারি গণমাধ্যম দাবি করছে, তাদের প্রস্তাব মেনেই যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে।
বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি পরিবহন এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এটি বন্ধ থাকলে তেলের দাম বেড়ে যায়, আর খুললে বাজারে স্বস্তি ফেরে-এটাই বাস্তবতা। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কি স্থায়ী শান্তির পথে নিয়ে যাবে, নাকি আবার উত্তেজনা ফিরে আসবে?



















