
যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারক সই হলেও তা মানেনি যুক্তরাষ্ট্র—এমন অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এখনো ধমক, আধিপত্য ও জবরদস্তির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির পক্ষে পাঠ করা এক লিখিত বিবৃতিতে এসব মন্তব্য তুলে ধরা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে যে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করা যায় না। খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন’ এবং ‘অবৈধ’।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ তাদের প্রকৃত চেহারা তুলে ধরেছে। প্রতারণা, অবিশ্বস্ততা ও আধিপত্যবাদই তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমঝোতা স্মারক ভঙ্গের অভিযোগ তুলে মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জাতীয় ঐক্য। জনগণ ও রাষ্ট্রের সব স্তরকে একসঙ্গে থেকে দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সংকটময় সময়ে বিজয়ের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং বিভেদ এড়িয়ে চলা।
উল্লেখ্য, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে পরে উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং সমঝোতাটিকে কার্যত অকার্যকর বলে ঘোষণা করে।




















