বৃহস্পতিবার- ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হজ পালনে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি: দুরারোগ্য ব্যাধি ও গুরুতর অসুস্থতায় অনুমতি দেবে না সৌদি সরকার

হজ স্বাস্থ্যবিধি কঠোর
ছবি: ডিপিএল

সৌদি আরব সরকার দুর্গম ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হজ পালনের অনুমতি দেবে না বলে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হজযাত্রী প্রেরণকারী দেশগুলোকে চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে। এই নতুন নির্দেশনার অধীনে, প্রত্যেক হজযাত্রীর সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (১০ নভেম্বর) জানানো হয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে হজযাত্রীরা হজ পালনে স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত- এমন প্রত্যয়ন দিতে হবে।

সৌদি সরকারের পাঠানো চিঠিতে যেসব গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে হজে অংশ নেওয়া যাবে না, সেগুলোর একটি বিস্তারিত তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • কিডনির ডায়ালাইসিস।
  • গুরুতর হৃদরোগ।
  • অক্সিজেননির্ভর ফুসফুসের রোগ।
  • ভয়াবহ লিভার সিরোসিস।
  • গুরুতর স্নায়বিক বা মানসিক রোগ এবং স্মৃতিভ্রষ্টতা।
  • অত্যন্ত বয়সী ব্যক্তি।
  • শেষ প্রান্তিক বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা।
  • সংক্রামক রোগ, যেমন যক্ষ্মা, ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বর।
  • ক্যানসার রোগীরাও হজ করতে পারবেন না।

হজযাত্রী প্রেরণকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাদের প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ততা প্রত্যয়ন করে ‘নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মে’ একটি বৈধ স্বাস্থ্য সনদ ইস্যু করতে হবে। সৌদি আরবে আগমন ও বহির্গমনের সময় মনিটরিং দলগুলো এই স্বাস্থ্য সনদের যথার্থতা যাচাই করবে। যদি কোনো হজযাত্রীর স্বাস্থ্য খারাপ অবস্থায় ধরা পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে সৌদি স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের হজে নিবন্ধন না করার নির্দেশনা আগেই জারি করা হয়েছে এবং হজ এজেন্সিগুলোকেও এই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সৌদি সরকারের অনুরোধে বাংলাদেশি দুইজন চিকিৎসকও একটি ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করছেন।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি সরকার নিশ্চিত করতে চাইছে যে হজের সময় অতিরিক্ত চাপ এবং জনসমাগমের মধ্যে কেবল সেই সকল ব্যক্তিরাই এই পবিত্র ইবাদতে অংশ নিতে পারবে যারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং যাদের অসুস্থতা অন্যদের জন্য ঝুঁকির কারণ হবে না।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়