
জুলাই অভ্যুত্থানের মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দেশের নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শক্তি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।
শনিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারাও আশ্বস্ত করেন-ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে তারা পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্য ধরে রাখবেন।
হাদির ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে বৈঠক
ঢাকা–৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর হামলার পরদিন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত শুক্রবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর রাজধানীর সড়কে তাকে গুলি করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদি বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
হামলার ঘটনায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন অধ্যাপক ইউনূস। বৈঠকের আগে তিনি হাদির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে ষড়যন্ত্রকারীরা
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই হামলা একটি পূর্বপরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এর পেছনে বড় শক্তি কাজ করছে, যারা নির্বাচনটি হতে দিতে চায় না। হামলাটি খুবই সিম্বলিক।
তিনি আরও বলেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে এবং প্রশিক্ষিত শুটার ব্যবহার করছে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দ্বন্দ্ব পরিহার ও রাজনৈতিক সংযমের আহ্বান
জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষ শক্তিগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু কাউকে শত্রু ভাবার সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। নির্বাচনী উত্তেজনা যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেদিকেও সতর্ক করেন তিনি।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরু হওয়ার সুযোগেই আওয়ামী লীগ আবার শক্তিশালী হয়েছে। তাই দলীয় স্বার্থের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে।
দলগুলোর ঐক্যের অঙ্গীকার
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই মুহূর্তে ঐক্য ছাড়া বিকল্প নেই। পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ করে জাতির স্বার্থে এক থাকতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাম্প্রতিক বক্তব্যে একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানানোর প্রবণতা বিরোধীদের সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি পূর্বের মতো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে ফেরার আহ্বান জানান।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে ঘিরে উদ্দেশ্যমূলক ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে ‘নরমালাইজড’ করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমাদের অনৈক্যই ষড়যন্ত্রকারীদের শক্তি।
দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে কোনো নিরাপত্তাই আমাদের রক্ষা করতে পারবে না।





















