বৃহস্পতিবার- ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এক দশক পর ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদ

যুদ্ধাপরাধী আত্মসমর্পণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণকালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পলাতক থাকার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বছরের ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (কারা-২ শাখা) এক বিশেষ আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। সাজা স্থগিতের জন্য তিনি নিজেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। সরকারের এই আদেশের পর প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এটি ছিল বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারে প্রথম চূড়ান্ত রায়।

তবে রায় ঘোষণার আগেই, ২০১২ সালের মার্চ মাসে রাষ্ট্রপক্ষ তার গ্রেপ্তারের আবেদন করলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পূর্বেই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর দীর্ঘ ১২ বছর তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট ৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ৭টি অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে-

  • গণহত্যা ও হত্যা: সরাসরি ১৪ জনকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত
  • পাশবিক নির্যাতন: ৩ জন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত
  • অপহরণ ও নির্যাতন: ৯ জনকে অপহরণ ও ১০ জনকে দীর্ঘ সময় আটক রেখে নির্যাতন
  • অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন: তার নেতৃত্বে ৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ১৫টি বাড়িতে লুটপাট

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। অন্যান্য অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় সেগুলোর জন্য পৃথক দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়নি। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।

এর আগে ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ আবুল কালাম আজাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দেশের প্রথম যুদ্ধাপরাধ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো।

আত্মসমর্পণের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়