বৃহস্পতিবার- ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬ বছরে ২২ গুণ আয় বৃদ্ধি: রুমিন ফারহানার সম্পদে যুক্ত হয়েছে ফ্ল্যাট ও জমি

রুমিন ফারহানার আয় সম্পদ
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানার আয় ও সম্পদে গত ছয় বছরে ব্যাপক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৯ ও ২০২৫ সালে জমা দেওয়া দুটি হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ের মধ্যে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে ২২ গুণের বেশি, পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে স্থাবর সম্পদও।

২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে আয় ছিল ৪ লাখ টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে সুদ বাবদ আয় ছিল ৩৪ হাজার ১০০ টাকা।

অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২০২৫ সালে জমা দেওয়া সর্বশেষ হলফনামায় তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়েছে অন্তত ২২ গুণ।

স্থাবর সম্পদে বড় পরিবর্তন

২০১৯ সালের হলফনামায় রুমিন ফারহানা স্থাবর সম্পদ হিসেবে কেবল একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। সে সময় তার নিজের নামে ঢাকায় কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা বসতভিটা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ২০১৯ সালের ৩ আগস্ট সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র দুই মাস পর তিনি তৎকালীন সরকারের কাছে ঢাকায় ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সংসদ সদস্যদের প্যাডে করা ওই আবেদনে নিজ নামে কোনো জমি বা ফ্ল্যাট না থাকার কথাও উল্লেখ ছিল।

তবে ২০২৫ সালের হলফনামায় সম্পদের চিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। সর্বশেষ ঘোষণায় মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাটটির পাশাপাশি তার মালিকানায় রয়েছে—ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোড এলাকায় ৫ কাঠা জমি, একই এলাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট এবং পুরান ঢাকার পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক স্পেস। ওই বাণিজ্যিক স্থাপনার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব সম্পদের অধিকাংশই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হওয়ায় ক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।

নগদ অর্থ ও আর্থিক বিবরণ

নগদ অর্থের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৯ সালে তার হাতে নগদ অর্থ ছিল ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকায়। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৯ টাকা।

দুটি হলফনামাতেই তার নামে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা উপহার হিসেবে পাওয়া বলে দেখানো হয়েছে। তবে শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো বিনিয়োগ তার নামে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

মামলার তথ্য

২০১৯ সালের হলফনামায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা তিনটি মামলার কথা উল্লেখ ছিল, যেগুলো ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ছিল। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, নতুন একটি মামলাসহ আগের সব মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

নতুন হলফনামা অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মোট ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা আসবে তার আইন পেশা থেকে অর্জিত আয় থেকে এবং বাকি ৫ লাখ টাকা তিনি ধার নেবেন খালাতো ভাই প্রবাসী গালিব মেহেদীর কাছ থেকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার একাংশ) আসনে বিএনপি এবার তাদের জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে প্রার্থী দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে রুমিন ফারহানা ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর পরদিন ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়