বুধবার- ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের বাজারে আগুন, দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম
। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা। আর তার আঁচ লাগল জ্বালানি বাজারে। একদিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেল এক ডলারের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর সামরিক তৎপরতাকে ঘিরে ইরান–কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে—এই আশঙ্কাতেই বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১১ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ১ দশমিক ৪ ভাগ বৃদ্ধি।

চলতি বছরের জানুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ দাম।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ডের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৯ সেন্ট বেড়ে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কয়েকটি স্থাপনায় হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কাই দামের উল্লম্ফনের বড় কারণ।

শুধু তাই নয়, ইরাক থেকেও উৎপাদন কমার খবর এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মজুত ও রপ্তানির সীমাবদ্ধতায় দেশটি দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন আরও কমতে পারে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে।

বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও এখান দিয়ে যায়।

সাম্প্রতিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকেরা।

এর প্রভাব পড়বে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে। জ্বালানি খরচ বাড়লে পণ্যের দামও বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বইতে হবে সাধারণ মানুষকেই।

প্রশ্ন হলো-উত্তেজনা কত দূর গড়াবে? আর তেলের বাজারে এই আগুন কত দিন জ্বলবে?

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়