
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক সেবন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়ে চার দিন আইসিউতে লড়ে অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র সাকিবুল হাসান রানা। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর শামিমা ইয়াসমিন।
তিনি বলেন, “সাকিব আমাদের মাঝে আর নেই। সাকিবের এক আত্মীয় আমাদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আমার এই মুহূর্তে আসলে কথা বলার মত ভাষা নেই।”
সংঘর্ষের সূচনা
গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক সেবন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আহতরা হলেন- সাকিবুল হাসান রানা (বিজ্ঞান বিভাগ, সেশন ২০২৪–২৫), হৃদয় আহমেদ (মানবিক বিভাগ, সেশন ২০২৪–২৫), জান্নাত (আইডিয়াল কলেজ, মানবিক বিভাগ, সেশন ২০২৫–২৬)
অভিযোগ রয়েছে, জান্নাত ছাত্রদলের প্রভাবশালী একটি গ্রুপের সহায়তায় তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে অবস্থান করতেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ছাত্রদলের তরুণ–সেলিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মোমেন পালোয়ান আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি তরুণ গ্রুপের প্রভাব ব্যবহার করে ক্যাম্পাস ও হলে আধিপত্য বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বহিরাগতদের নিয়ে অপকর্মে জড়িত থাকা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যে গুজব ছড়িয়ে মানসিকভাবে টর্চার করা হয়। ভর্তি বাণিজ্য থেকে শুরু করে ফর্ম পূরণের বাণিজ্যেও ছাত্রদল সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সামাজিক প্রভাব
এই সংঘর্ষে একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু শুধু পরিবার নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনকে শোকাহত করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং ক্যাম্পাসে মাদক ও বহিরাগতদের প্রভাব শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।





















